যাতায়াতের একমাত্র রাস্তার অবস্থা বেহাল। রাস্তা নেই তাই একটি ভোটও নেই। রাস্তার দাবীতে ভোট বয়কটের ডাক দিলেন বালুরঘাট ব্লকের অমৃতখন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের তিনটি গ্রাম চকমাধব, কুতুবপুর, চিংরা গ্রামের সাধারণ মানুষ। এমনকি এই সংসদ থেকে মনোনয়ন পত্র জমাও দিতে দেওয়া হয়নি কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীকে। গ্রামের সকলেরই একটি দাবী আগে রাস্তা পরে ভোট। নয়তো পুরো ভোট বয়কট।
জানা গিয়েছে, বালুরঘাট ব্লকের অমৃতখন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের চকমাধব সংসদের অধীনে রয়েছেন চকমাধব সহ কুতুবপুর ও চিংরা গ্রাম। তিনটি গ্রাম মিলিয়ে রয়েছে প্রায় ৭০০ ভোটার। ৭০০ ভোটার হলেও তিনটি গ্রামের মোট জন সংখ্যা প্রায় ১২০০ মতো। এই তিনটি গ্রাম থেকে কামারপাড়া আসতে হয় তাদের। সেখান থেকে হিলি বা বালুরঘাটে যেত হয়। গ্রামে যাওয়ার এক মাত্র রাস্তাটি মাটির আর কিছুটা ইটের। রাস্তার মাঝে হাঁটু সমান গর্ত। শীতকালে তেমন অসুবিধা না হলেও। সমস্যার সৃষ্টি হয় বর্ষাকালে। একটু বৃষ্টিতেই হাঁটুজল জমে যায় রাস্তায়। কামারপাড়া থেকে দুই কিলোমিটার গ্রামের রাস্তাটি দীর্ঘ দিন থেকেই বেহাল। পাকা রাস্তার দাবীতে বিভিন্ন সময় স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন গ্রামবাসীরা। তবে আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি। তাই ভোটকেই ব্রহ্মাস্ত্র করে রাস্তার দাবীতে লড়াই এর ময়দানে নেমেছেন গ্রামবাসীরা। পঞ্চায়েত নির্বাচন আসতেই সব রাজনৈতিক দল এক সঙ্গে ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছেন। ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছেন চকমাধব সংসদের গ্রামবাসীরাও। তাদের একটাই দাবী আগে রাস্তা পরে ভোট। রাস্তা নেই ভোটও নেই।এমনকি এই সংসদ থেকে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও মনোনয়ন পত্র জমা দেয়নি।
এবিষয়ে গ্রামবাসী কালিপদ বর্মন জানান, বাম আমলেও তাদের রাস্তা হয়নি। তৃণমূল আমলেও তাদের বেহাল দশা কাটেনি। রাস্তার সমস্যার জন্য স্কুল পড়ুয়ারা শহরে যেতে পারে না ঠিক মত। অসুস্থ হয়ে পরলে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া মুশকিল হয়ে পরে। এমত অবস্থায় তারা রাস্তার দাবী তুলেছেন। রাস্তা না হলে তারা ভোট দান থেকে বিরত থাকবেন। রাস্তার দাবীতে গোটা গ্রাম এক যোগে ভোট বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের আর.এস.পি-এর সদস্য তপন মণ্ডল জানান, এই এলাকার মেম্বার তিনি। পঞ্চায়েতের ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল। রাস্তার জন্য তিনি বারংবার পঞ্চায়েত ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তবে এখনও রাস্তা ঠিক হয়নি। এই এলাকা আর.এস.পি প্রভাবিত। এবার দাড়ালেও তিনি জয়ী হবেন। তবে এবার সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলে তারা ঠিক করেছেন ভোট দান থেকে তারা এবার বিরত থাকবেন। তাই ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছেন।
অন্য দিকে অমৃতখন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের প্রধান জয়ন্তী সরকার জানান, রাস্তা না হওয়ার পিছনে আর.এস.পি মেম্বার দোষ রয়েছে। ওনাকে রাস্তাটি ভাগ করার কথা বলা হয়েছিল। তিনি সেটা মানেননি। একবারে রাস্তা করার দাবী জানিয়েছেন। পঞ্চায়েতের পক্ষ একবারে অতটাকা দিয়ে রাস্তা করা সম্ভব নয়। রাস্তার বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন।
বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন নিচের লিংকে
https://www.youtube.com/embed/sAzNUx7kZd0